গবেষকরা প্রমান করেছেন যে স্থানীয় জলবায়ুর সঙ্গে কিছু রোগের আবির্ভাব ও জটিলতা এবং অন্যান্য মানব স্বাস্হ্য সংক্রান্ত আশঙ্কার সুনিকট সম্পর্ক আছে। অনুমান করা হয়েছে যে জলবায়ু পরিবর্তন প্রতি বছর ১৫০,০০০ মৃত্যু এবং ৫ কোটি রোগের জন্য দায়ী। বিশ্ব স্বাস্হ্য সংস্থা আন্দাজ করেছে পৃথিবীর রোগভোগের এক-চতুর্থ বায়ু, জল, মাটি আর খাবার দূষণের ফল।
বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে, বায়ুমন্ডলের গড় তাপমান ১ ডিগ্রী ফারেণহাইট বেড়েছে। বিশ্ব স্বাস্হ্য সংস্থার হিসেব অনুসারে ২০০০ সাল পর্যন্ত বার্ষিক ১৬০,০০০ জীবনের হানি ঘটেছে ও ৫.৫ কোটি
সুস্থ জীবন ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ২০২০ সালের মধ্যে এই ক্ষতির সংখ্যা দ্বিগুন হয়ে ৩০০,০০০ জীবনহানি আর ১১ কোটি অসুস্থ জীবনে গিয়ে ঠেকবে।
আফ্রিকা, ভারতীয় উপমহাদেশ এবং দক্ষিণপূর্ব এশিয়াতে এই মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশী। মৃত্যু এবং রোগের অধিক সংখ্যার কারন হল অপুষ্টি, উদরাময়, ম্যালেরিয়া, তাপপ্রবাহ এবং বন্যা। কিন্তু যে সমস্ত অঞ্চলে এই রোগগুলির প্রভাব কম সেখানেও বিশ্ব ঊষ্ণীভবনের প্রভাব পড়বে।
স্বাস্থ্যের উপর জলবায়ু পরিবর্তনের কিছু প্রভাব হল: তাপতরঙ্গের অধিক কম্পাঙ্ক; বৃষ্টির নকশায় পরিবর্তনের ফলে জলাভাব; জলযুক্ত রোগের উচ্চতর ঝুঁকি; সাগর পৃষ্ঠের উচ্চ্তাবৃদ্ধির দরুন উপকূলবর্তী বন্যার বৃদ্ধি, ইত্যাদি।
এমনকি অতি সুক্ষ্ম এবং ধীর জলবায়ু পরিবর্তন ও মানব স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে। শেষ দুই দশকের মধ্যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হাঁপানির ব্যাপন জলবায়ু-যুক্ত কারণে চারগুণ হয়ে গেছে। ক্যারিবিয়ান দ্বীপ পুঞ্জের অধিবাসীদের শ্বাসপ্রদাহকারী বস্তু সমূহ ধুলিকণা ঘটিত মেঘের দ্বারা আনীত হয়। ধূলিকণা ঘটিত মেঘ আফ্রিকার ক্রমবর্ধমান মরুভূমি হতে উদ্গত হবার পর বানিজ্য বায়ু প্রবাহ দ্বারা অতলান্তিক মহাসমুদ্রের ওপর দিয়ে বাহিত হয়। উষ্ণতর মহাসামুদ্রিক তাপমান এই বায়ু প্রবাহকে ত্বরান্বিত করেছে। এই বস্তুসমূহে বর্ধিত মাত্রায় পরাগরেনু এবং মৃত্তিকাজাত ছত্রাক ও জড়িত। দ্বিগুন CO2 সমন্বিত পরিবেশে বর্ধিত রেগউইডের গর্ভদন্ড নিয়ান্ত্রিতের তুলনায় দশ শতাংশ দীর্ঘতর হয় এবং ষাট শতাংশ বেশী পরাগরেনু উত্পন্ন করে।
অতি চরম আবহাওয়া জনিত ঘটনাগুলি বর্ধমান হারে চলতে থাকলে কিছু স্বাস্থ্য সংক্রান্ত প্রভাব অবশ্যম্ভাবী। দ্রুত তাপমান পরিবর্তনের দরুন উষ্ণ বা শীতপ্রবাহ বর্তমানে ব্যাপক রূপ ধারন করেছে আর প্রকারান্তরে এরা নানা রকম মারণ ব্যাধি যথা উষ্ণ আক্ষেপ বা হাইপোথার্মিয়া ঘটায়।এগুলি হৃদ রোগ ও শ্বাসকষ্ট জনিত মৃত্যু হার বৃদ্ধির কারন। মরণশীলতা ও হাসপাতালে ভর্তির পরিসংখ্যান হতে দৃষ্ট হয় যে অতি উষ্ণ দিনে মৃত্যুহার বৃদ্ধি পায়, বিশেষতঃ নগরবাসী অতিবৃদ্ধ ও অত্যন্ত কম বয়সীদের মধ্যে।
উদাহরণ:

১৯৯৫ থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে সর্বমোট ২৫০ কোটি মানুষ প্রভাবিত হয়েছে, ৮৯০,০০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫,৭০০ কোটি আমেরিকান ডলারের ক্ষতি হয়েছে। অধিকাংশ বিপর্যয়ই (৭৫%) চরম আবহাওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত, যা জলবায়ু পরিবর্তন দ্বারা বর্ধিত হয়।
বন্যা, ভূমিকম্প, সুনামি, দাবদাহ প্রভৃতি প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঘটনা বিগত দশকে ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং মানব স্বাস্থ্যের ওপর তার প্রভাব ফেলেছে। ১৯৯০ এর দশকে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের দরুন গোটা বিশ্বে প্রায় ছয় লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়েছে যার ৯৫ শতাংশ দরিদ্র দেশগুলিতে। ২০০৭ সালে প্রকাশিত অক্ষ্ফাম রিপোর্ট মোতাবেক ১৯৮০র দশকে প্রতি বছর গড়ে ১২০টি প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০০তে। কিছু উদাহরণ-
আই.পি.সি.সি. অনুমান করেছে যে তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং বৃষ্টির নকশার পরিবর্তনের ফলে যে সব অঞ্চলে পূর্বে রোগ বা রোগ বাহক ছিল না, সেখানে আরো বেশী রোগসহায়ক পরিস্থিতির উদ্ভব হবে। জলবায়ু পরিবর্তন ব্যাধির বিস্তার ত্বরান্বিত করে যার মূল কারণ উষ্ণতর বিশ্বতাপমান সেই ভৌগলিক সীমাবৃদ্ধি করে যাতে রোগ বহনকারী প্রাণী, পতঙ্গ ও জীবানু এবং এদের বাহিত বীজানু ও ভাইরাস জীবিত থাকতে পারে। আবহাওয়ার প্রকৃতি পরিবর্তন ছাড়াও জলবায়ু সেই সমস্ত রোগকে প্রভাবিত করে যা বাহক দ্বারা সংক্রামিত (যেমন মশা) বা দন্তুর প্রাণী দ্বারা সংক্রামিত।
বিশ্বের প্রধান মারক ব্যাধিগুলোর অন্যতম ব্যাধিগুলি জলবায়ু সংবেদনশীল। ২০০২ সালে দাস্ত, ম্যালেরিয়া বা প্রোটিন শক্তি অপুষ্টি এককভাবে গোটা বিশ্বে ৩৩ লক্ষ মৃত্যুর কারণ, যার ২৯ শতাংশ আফ্রিকা অঞ্চলে। উষ্ণ আবহাওয়ার সঙ্গে যুক্ত মারণ ব্যাধিগুলো যেমন পশ্চিম নিল ভাইরাস, ওলাউঠা এবং লিমেরোগ দ্রুত উত্তর আমেরিকা এবং ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ছে কারণ এই সব অঞ্চলের বর্ধিত তাপমান রোগের বাহকগুলো যেমন মশা, টিক এবং দন্তুর প্রাণীর জীবন ধারণের সহায়ক।
চরম ঘটনা সমূহ যথা বন্যা, ঝড়, খরা এবং অনিয়ন্ত্রিত অগ্নিকান্ড স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকারক হতে পারে। বন্যা ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এবং রসায়নিক দূষকপদার্থ বহন করে, ছত্রাকের বৃদ্ধি ঘটায় এবং পতঙ্গাদির বংশবৃদ্ধিতে সাহায্য করে। দীর্ঘমেয়াদী খরা এবং অন্তর্বর্তীকালীন ভারী বৃষ্টি পতঙ্গ এবং দন্তুর প্রাণীর সংখ্যা বিষ্ফোরণের সহায়ক। চরম আবহাওয়া সংক্রান্ত ঘটনাবলির সঙ্গে এশিয়া এবং উত্তর আমেরিকায় নতুন ক্ষতিকারক অ্যালগির আবির্ভাব ঘটেছে। ল্যাটিন আমেরিকা এবং এশিয়া মহাদেশে ম্যালেরিয়া, বিভিন্ন জলবাহিত রোগসমূহ যথা সান্নিপাতিক, হেপাটাইটিস এ, রক্ত আমাশা এবং ওলাউঠার প্রাদুর্ভাব ঘটেছে।
বাহক জনিত ব্যাধিসমূহ সেই সমস্ত সংক্রমণ যা সংক্রামিত পতঙ্গাদি যেমন মশা, ছারপোকা, এঁটুলি, বালিমাছি বা কালোমাছির দংশনে বাহিত হয়।
বহু ব্যাধির বাহক মশা তাপমান পরিবর্তনের ওপর অত্যন্ত সংবেদনশীল। সহ্যসীমার মধ্যে পরিবেশের উষ্ণকরন তাদের প্রজন্মের হার বৃদ্ধি করে, রক্তপানের সংখ্যাবৃদ্ধি করে, প্রজন্মের মরসুম দীর্ঘারিত করে এবং তাদের বাহিত বীজানুকুলকে দ্রুত পরিনত করে। মশককুল এবং তাদের বাহিত ব্যাধিসমূহ যথা ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, রসনদীর ভাইরাস এবং পশ্চিমনীল ভাইরাস বিশেষভাবে তাপমানের পরিবর্তন আর ভূমির উচ্চতাবৃদ্ধির সঙ্গে সংবেদনশীল। পতঙ্গ দংশনের হার এবং পতঙ্গের অভ্যন্তরে জীবানুর পরিনত হওয়া তাপমানের ওপর নির্ভরশীল, উভয় হারই বায়ুর উষ্ণীকরনের সঙ্গে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয় ও রোগ সংক্রমনের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।
জলীয় পরিবেশে, মত্স্য, শেলফিস এবং সামুদ্রিক স্তন্যপায়ীগণ খাদ্যের প্রাথমিক রূপ আ্যালগি ভক্ষণ করে। মত্স্য শিকার কিম্বা রোগে এই সব আ্যালগি ভক্ষণকারীদের সংখ্যা হ্রাস পেলে ক্ষতিকারক অল্গির বৃদ্ধি ঘটবে। প্লাঙ্কটনের বৃদ্ধি ওলাউঠা বা অন্যান্য জীবানু পোষণ করতে সক্ষম যা সাঁতারুদের স্বাস্থ্য কিংবা মাছ ও শেলফিস ভক্ষণকারীদের স্বাস্থ্যের পক্ষে হানিকর।
উচ্চ ভূমি অঞ্চলে বরফ গলার এবং হিমবাহগুলির পশ্চাদপসরনের ফলে মশা এবং উদ্ভিদরাজি উচ্চতর ভূমিতে অভিবাসিত হয়েছে। পতঙ্গ এবং পতঙ্গ বাহিত ব্যাধি সমূহ (যথা ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গু জ্বর) উভয়েই ইদানিং আফ্রিকা, এশিয়া ও ল্যাটিন আমেরিকার উচ্চভূমিতে পরিলক্ষিত হয়েছে। পাপুয়া নিউ গিনি বা মধ্য আফ্রিকার উচ্চ ভূমির গ্রামাঞ্চলে ম্যালেরিয়া একটি সমস্যায় পরিনত হচ্ছে। ১৯৯৮ সালে ২৩০০ মিটার উঁচু তুন্তুনানিতে (Mapstone, ২০০৯) ম্যালেরিয়ার প্রকোপ ঘটে যদিও এই উচ্চতায় ম্যালেরিয়ার কোন পূর্ব ইতিহাস ছিল না। ৩,০০০ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত বাহক মশা দেখা গেলেও এখনো সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১,৮০০-২,০০০ মিটারের উর্ধে ম্যালেরিয়ার মহামারী অবর্তমান। পূর্বে ডেঙ্গু রোগ বহনকারী মশা ৩,৩০০ ফুট উচ্চতায় সীমাবদ্ধ থাকলেও সম্প্রতি কলম্বিয়ার এন্দিজ্ পর্বতে ৭,২০০ ফুট উচ্চতায় তাদের দেখা গিয়েছে। জলবায়ুর পরিবর্তন রোগবহনকারী মশাদের বিস্তারে সাহায্য করছে কারণ পূর্বে যে সমস্ত অঞ্চল তাদের জীবন ধারণের অযোগ্য ছিল তা ক্রমশঃ সহনীয় হয়ে উঠেছে।
কীট নাশকদের বিরুদ্ধে মশার ও বহু ঔষধের বিরুদ্ধে পরজিবীগুলির প্রতিরোধ ক্ষমতা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে, এবং এর কোন কার্যকরী টীকা নেই; অদূর ভবিষ্যতে আবিষ্কারেরও কোন সম্ভাবনা নেই। পরিবেশগত পরিবর্তন, তার সাথে বর্ধিত আবহাওয়ার পরিবর্তনশীলতা এবং উষ্ণীকরনের প্রবনতা এই রোগের বিস্তারে ক্রমবর্ধমান ভূমিকা গ্রহন করছে বলে প্রতীয়মান হয়।
সরীসৃপগণ, পাখি, মাকড়সা, বাদুড়, লেডিবাগ ও পুষ্করনীর মত্স্য , মশা বা তার শুককীট খাদ্য হিসাবে গ্রহন করে এবং প্রাকৃতিক উপায়ে মশক দমনে সহায়তা করে। মশককূল এই সকল প্রাণীর পুষ্টির যোগানদার হওয়া সাত্ত্বেও কিছু সংখ্যক মশা ম্যালেরিয়া, পীত জ্বর, ডেঙ্গু ও বিভিন্ন প্রকার এনকেফেলাইটিস বাহন করে।
ম্যালেরিয়া বা পশ্চিমনীল ভাইরাসের ন্যায় ডেঙ্গু জ্বরও, যা প্রধানতঃ ৪ প্রকারের, মশাবাহিত। কিন্তু ম্যালেরিয়ার সঙ্গে বৈসাদৃশ্যে ডেঙ্গুরোগ বহনকারী মশা নাগরিক পরিবেশে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয় (Nelson, ২০০৯)। চারটি প্রজাতির যে কোন একটির সক্রমণ কেবলমাত্র সেই প্রজাতির বিরুদ্ধেই প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে এবং দুর্ভাগ্যবশতঃ অন্য প্রজাতির দ্বারা আক্রমনের সম্ভাবনা বর্ধিত হয় (ibid)। সর্বাপেক্ষা মারাত্মক প্রজাতি ডেঙ্গু হেমোরেজিক জ্বরের (DHP) কারণ, যদিও দ্রুত রোগ নির্ণয় হলে এটা কদাচ মৃত্যুর কারণ। এই রোগ দেহাভ্যন্তরীন যন্ত্রাদির ক্ষতি করে।
ডেঙ্গু জ্বরের উৎপত্তিস্থল আফ্রিকায় এবং ১৩০তিরও বেশী প্রজাতির মশা দ্বারা উষ্ণ ও স্বল্প উষ্ণ অঞ্চলে বাহিত হয় (Tseng et al., ২০০৮)। প্রতি মরসুমেই রোগ নথিভুক্ত হয়েছে এবং এর ব্যাপক বিস্তৃতি বহু দেশে, যথা দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্য আমেরিকা, পশ্চিম প্রসান্ত মহাসাগরীর এলাকা (Tseng et al., ২০০৮)। ডেঙ্গু জ্বরের বর্ধিত ঝুঁকির সঙ্গে যে সমস্ত মাসের গড় তাপমান ১৮ ডিগ্রী সেন্তিগ্রেডের বেশী বা নগরীকরনের মাত্রার সামঞ্জস্য লক্ষ করা যায় (Wu et al., ২০০৯)। তাপমান পতঙ্গের জীবনকাল, বাসভূমি, পরিনত হওয়ার ও সংক্রমনের সময়কালকে প্রভাবিত করে। উচ্চতর তাপমান ভাইরাসের ইনকিউবেশন কাল কমায় ও পরিনত হওয়ার হার বৃদ্ধি করে (ibid)। ডেঙ্গু জ্বরের দায়ী মশা অ্যডিস ইজিপ্টি ছোট প্রাকৃতিক জলাধারে, যেমন বৃক্ষ কোটরে কিংবা প্রস্তরাভ্যন্তরীন জলাধারে বংশ বৃদ্ধি করে (Phillips, ২০০৮)। বর্তমান এরা জঞ্জালে জমা জলেও (বোতল, প্লাস্টিক, টায়ার) বংশ বৃদ্ধি করে। উপরন্তু এই প্রজাতির মশা বাইরে অপেক্ষা গৃহাভ্যন্তরে থাকতে পছন্দ করে এবং পশু অপেক্ষা মানুষের রক্ত পানে আসক্ত। সুতরাং বলা যায় এই মশককুল নাগরিক পরিবেশে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছে (ibid)।
গবেষকগণ এক দশকের অধিক সময় ধরে মেক্সিকোর মাতামরস ও তামাওলিপাসে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবের ওপর সুক্ষ্ম জলবায়ু এবং ENSO সম্পর্কিত আবহাওয়ার প্রভাব পর্য্যবেক্ষণ করেছেন (Brunkard, et al., ২০০৮)। তারা লক্ষ্য করেছেন যে সাপ্তাহিক সর্বোচ্চ তাপমান প্রতি ১ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড বৃদ্ধির এক সপ্তাহ পরে ডেঙ্গুর আক্রমণ ২.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পায় (ibid)। প্রতি ১ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমান বৃদ্ধির পরেও ডেঙ্গুর হার ১৯.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পায় (ibid)। এই সমস্ত ফল নির্দেশিত করে যে জলবায়ুগত কারণসমূহ ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে জড়িত যদিও অধিকাংশ প্রমানাদি এখনও আভাসিত করে যে অজলবায়ুগত কারণসমূহ মশকবাহিত রোগে বৃহত্তম ভূমিকা গ্রহন করে (ibid)।
উদাহরণস্বরূপ বলা যায় অস্ট্রেলিয়ার বৃষ্টিপাত হ্রাস এবং এই আবহাওয়ার ধারাবাহিকতা বজায় থাকার সম্ভবনায় এই অঞ্চল শুষ্ক হয়ে উঠেছে (Beebe et al, ২০০৯)। জলসরবাহের চাপ কমাতে সরকার গৃহে বৃহৎ জলাধার স্থাপনে উৎসাহ দান করেছে। তবে এই সব জলাধার মশার বংশবৃদ্ধির পক্ষে আদর্শ এবং বিশেষজ্ঞরা এই ভেবে অশঙ্কিত যে নিকটবর্তী ডেঙ্গুপ্রবল কুইন্সল্যান্ড হতে এতদঞ্চলে ডেঙ্গুর পূনরাবির্ভাব ঘটতে পারে (Beebe et al, ২০০৯)। এক্ষেত্রে ডেঙ্গুর আশঙ্কা সরাসরি উষ্ণতর তাপমানের সঙ্গে যুক্ত নয় কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের উপর জনগনের প্রতিক্রিয়া এবং তার ফলপ্রসূত প্রভাব হতে উদ্ভূত।
তবে এটা উল্লেখযোগ্য যে ব্যাধির বহিঃপ্রকাশে জলবায়ুর ভূমিকাকে অবজ্ঞা করা সমুচিৎ নয় (Brunkard, ২০০৮)। প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণে প্রকাশ পেয়েছে যে সকল অঞ্চলে সম্প্রতি রোগের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে, সেখানে রোগ এবং জলবায়ুর একটা নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে (ibid)। জনস্বাস্থ্য অধিকারীগণ লক্ষ করেছেন যে বর্ষার প্রারম্ভে এবং উষ্ণ তাপমাত্রায় ডেঙ্গু রোগের অধিকতর আক্রমণ ঘটে। ডেঙ্গু কিভাবে সংক্রামিত হয় সে ব্যাপারে প্রশ্ন করলে আমেরিকা-মেক্সিকো সীমানার অধিবাসী এই প্রকার জবাব দেবেন "এখানে সব সময় গরম তাই মশা মরে না" অথবা "আমি জানি না। মানে হয় মশা। হঠাৎ বর্ষা আসে আর ডেঙ্গুও এসে হাজির হয়।"
অন্যান্য বাহক জনিত রোগের উদাহরণ:
দন্তুর প্রাণী জনিত ব্যাধি বড় ও ছোট ইঁদুর, বাদুড় এবং অন্য দন্তুর প্রাণী দ্বারা বাহিত হয়। ভারী বর্ষায় এবং বন্যায় মানুষ-বীজানু আর দন্তুর প্রাণীর সংস্পর্শের পরিবর্তিত নকশার দরুন দন্তুর বাহিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পায় বলে প্রমান আছে। প্রায়্শয়ই বন্যার অব্যবহিত পরেই দন্তুর বাহিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি হয়; ভারী বর্ষা দন্তুর প্রানীদের গর্ত থেকে বিতাড়িত করে, মশার বংশবৃদ্ধি স্থান বৃদ্ধি করে, বাড়িতে ছত্রাক বৃদ্ধি করে, রোগ বীজানু বৃদ্ধি করে এবং পানীয় জালে খাদ্য ও রসায়নিকের মিশ্রণ ঘটায়।
বিভিন্ন প্রজাতির হান্টাভাইরাস ইউরোপ, স্পেন, পর্তুগাল, গ্রীস, পশ্চিম রাশিয়া এবং ইতালির অধিকাংশ স্তনে ১৯৯৭ সালে ভয়াবহ আকার ধারণ করে; ৯০০০ মানুষ রোগগ্রস্ত হয় যার মদ্যে ৩৪ জনের মৃত্যু ঘটে (Clement, et al. ২০০৯)। নিউরোপ্যাথিয়া এপিডেমিকা (NE) একটি হান্তাভাইরাস ঘটিত রোগ, যাতে ৮০র দশকে প্রতি বছর মাত্র কয়েকজন মানুষ আক্রান্ত হত কিন্তু বিগত ৩ বছর ধরে প্রতি বছর গড়ে ৩০০ মানুষ আক্রান্ত হয়েছে (Weinhold, ২০০৯)।
অনুসন্ধান শুরু করার আগে, গবেষকদের ভাবার প্রয়োজন আছে যে বেলজিয়াম, জার্মানি, ফ্রান্স, লুক্সেমবার্গ এবং নেদারল্যান্ডসে ২০০৫ সালে NE প্রকোপ হঠাৎ কেন বৃদ্ধি পায় (Dixon, 2009)। Clement et al. (2009) বেলজিয়ামের NE রোগের বহিঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে তাপমান ও বৃষ্টিপাতের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগসুত্র পরীক্ষা করে দেখেছেন।

![]()
ব্যাঙ্ক ভোলের প্রধান খাদ্য মাস্ট দানা এবং এই দানার প্রাচুর্য্যের অর্থ তীক্ষ্ণদন্তীদের খাদ্যের প্রাচুর্য্য, তাদের আয়ুবৃদ্ধি এবং পুরো শীতকাল তাদের বংশবৃদ্ধি। দানার প্রাচুর্য্যের সহিত তীক্ষ্ণদন্তীদের সংখ্যাবৃদ্ধি ইতিমধ্যেই সম্পর্কিত। মাস্ট দানার উৎপাদন বৃদ্ধি কিভাবে হয়? মৃদু শীতকাল (ibid)। Clement et al. ২০০৯ সালে একটি নকশা আবিষ্কার যেখানে দৃষ্ট হয় যে কম শীতে অধিক মাস্টদানা উৎপাদিত হয় যার ফলে পরবর্তী শীতে এবং বসন্তে ব্যাঙ্ক ভোলের সংখ্যার বৃদ্ধি হয়। যে বৎসর মাস্টদানার উৎপাদন বেশী হয়, তার পরবর্তী বৎসর NE র প্রকোপ বৃদ্ধি হয়।
১৯৮৫ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে ২০৪৮ জন NE রোগী নতিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৬৭৮ জন রোগী ১৯৯৫ থেকে ২০০৭ এর মধ্যে আক্রান্ত হন, ৮২৮ জন বা ৪৯.৩৪ শতাংশ হন বিগত তিন বছরে (Clement, et al. ২০০৯)। পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১৯৯০ সালের পূর্বের NE আক্রমনের ঘটনা কম হওয়ার কারণ সম্ভবত চিকিৎসাশাস্ত্রগত অজ্ঞানতা।
NE রোগ আক্রান্তের হার বৃদ্ধির আরেকটি কারণ মানুষের ক্রমবর্ধমান বহির্মুখী ক্রিয়াকলাপ যার ফলে মানুষের সঙ্গে ব্যাঙ্ক ভোলের সম্পর্ক নিবিড় হয়েছে (Clement, et al. ২০০৯) । এই জন্য বনে কর্মরত মানুষ বা যারা জঙ্গলে কাঠ সংগ্রহ করে তারা অধিকতর ঝুঁকিগ্রস্ত (ibid)।
NE রোগের প্রবনতা প্রমান করে যে সংক্রামক ব্যাধিগুলি জলবায়ুর পরিবর্তন দ্বারা প্রভাবিত, কারন জলবায়ু পরিবর্তন রোগ বীজানু বাহকদের পারিপার্শিক পরিস্থিতি বদলিয়ে দেয়, যেমন ব্যাঙ্ক ভোলের ক্ষেত্রে।
বিগত ৩০ বছরে এঁটুলি বাহিত এনকেফেলাইটিস রোগের সংখ্যা চারগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে (Rizzoli, ২০০৯)। এই রোগের বাহন Ixodes ricinus নামক কঠিন এঁটুলি এবং শুষ্কতা নিবারণের জন্যে এরা ৮০ শতাংশ আপেক্ষিক আর্দ্রতার উপর নির্ভরশীল (Grey, ২০০৮)। ছায়াছন্ন এবং উদ্ভিদাকীর্ণ অঞ্চলে শুষ্ক মরসুমেও ভূমিতল সদা আর্দ্র থাকে এবং এই রোগের জীবানুকে বেঁচে থাকতে উৎসাহিত করে (ibid)। সুইডেনে এঁটুলির প্রাচুর্য হালকা শীত এবং প্রলম্বিত বসন্ত ও শরৎকালের সঙ্গে সম্পর্কিত (ibid)।
বিগত দশকে এই রোগের সঙ্গে ভূমি উচ্চতার সম্পর্কের পরিবর্তন ঘটেছে (Grey, ২০০৮)। ১৯৫৭ এবং ১৯৭৯- ৮০ সালে সমুদ্রাপ্রিষ্ঠ হতে ৭০০ মিটার উচ্চতা পর্য্যন্ত এঁটুলির প্রকোপ ছিল । কিন্তু ২০০১ এবং ২০০২ সালে সমুদ্রাপ্রিষ্ঠ থেকে ১১০০ মিটার উচ্চতেও এদের দেখা মেলে। ১৯৫৭-১৯৮৩ পর্য্যন্ত গবেষকরা উপলব্ধি করেছেন যে উচ্চতর উচ্চতায় এঁটুলি পোকা তাদের জীবনচক্র সম্পুর্ন করতে অক্ষম। পূর্বে এদের বিস্তার ছিল ফ্রান্স, দক্ষিম-পশ্চিম ইংল্যান্ড থেকে মধ্য এশিয়া ও মধ্য ইউরোপ পর্যন্ত। এদের সীমারেখা ছিল উত্তরে জার্মানি, পোল্যান্ড, লিথুয়ানিয়া আর দক্ষিনে ভূমধ্যসাগরীয় তটভূমি। ১৯৭৬ সালে ৩০০০টি স্থানের মধ্যে মাত্র চারটি তে TBE রোগ সূচিত হয় (ibid)। ২০০৩ সালে ২৬টি স্থানে TBE রোগ সূচিত হয় কিন্তু এই সব অঞ্চলে এঁটুলির অবস্থিতি জ্ঞাত ছিল (ibid)। ২০০৪ সালে ১৪টি স্থানে এই রোগ সূচিত হয়, যার মধ্যে মাত্র ২ টি স্থানে এঁটুলির আবির্ভাব পূর্বেই জ্ঞাত ছিল। এই সমস্ত ফল নির্দেশ করে যে জার্মানি, হাঙ্গেরি, সুইজারল্যান্ড ও নেদারলান্দের নতুন নতুন অঞ্চলে এঁটুলির বাসস্থান ছড়িয়ে পরেছে।
TBE রোগের হার বৃদ্ধির কারন স্বরূপ সুত্রগুলি বিভিন্ন উৎপাদকের দিকে নির্দেশ করেছে যেমন হরিনের সংখ্যাবৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন, মানুষের ব্যবহার ইত্যাদি। জলবায়ু পরিবর্তনকৃত উষ্ণতর তাপমান পূর্ণবয়ষ্ক এঁটুলিকে শীতকালে জীবনধারণের সহায়তা করে এবং এর বিচরণভূমির দক্ষিণ অংশে জীবনচক্র পূর্ণ করতে সাহায্য করে (Grey, ২০০৮)। বৃষ্টিপাতের নকশার পরিবর্তনের সঙ্গে এঁটুলির প্রাচুর্য্যের পরিবর্তন ঘটে (ibid)। যেহেতু জলবায়ু পরিবর্তন বিভিন্ন অঞ্চলকে বিভিন্ন ভাবে প্রভাবিত করে, কোন অঞ্চলে এঁটুলির আধিক্য বৃদ্ধি পেয়েছে এবং অন্যত্র হ্রাস পেয়েছে। খুব সম্ভবত এঁটুলির আধিক্য চিরস্থায়ী অভিবাসন জনিত নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কিছু অঞ্চলে এঁটুলির জীবনধারণ সহজতর হয়েছে।
উত্তর ইউরোপে বনাঞ্চল এবং তার ব্যবস্থাপক পরিবর্তিত হয়েছে, জলবায়ু পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়েছে এবং রো ও লাল প্রজাতির হরিণের সংখ্যা যথাক্রমে ২০০০ ও ৫০০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে (Rizzoli, ২০০৯)। Rizzoli et al. (২০০৯) একটি গবেষণায় এই জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণ স্বরূপ কয়েকটি অনুমান করেছেন; যেমন ক্ষুদ্র বনভূমিকে যুক্ত করে উচ্চ ও বৃহৎ বনাঞ্চল সৃগুন করা, আর হরিণের সংখ্যা বৃদ্ধির অর্থ এঁটুলির সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া। তবে হরিণের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে এঁটুলির সংখ্যা বৃদ্ধির সম্পর্ক অকিঞ্চন, বরং সম্ভবতঃ ক্ষুদ্র স্তন্যপারীরা বনভূমির গঠন পরিবর্তনের ফলে লাভবান হয়েছে (ibid)।
TBE র আধিক্যের কারণ হিসেবে ভিন্ন মতগুলির মধ্যে আছে বিংশ শতাব্দীতে কমিউনিস্ট শাসনের পতন এবং জনস্বাস্থ্যব্যবস্থার বিলোপ, অর্থনৈতিক উন্নতি, ভূমির ব্যবহার, আন্তর্জাতিক বানিজ্য ও ভ্রমণ, প্রযুক্তি এবং শিল্প, মানুষের ব্যবহার, জনসংখ্যা সম্পর্কিত, ও জীবানুর পরিবর্তন এবং খাপখাওয়া (Randolph, ২০০৭)।
বিশেষতঃ বাল্টিক অঞ্চলে, যদিও পরিস্থিতি প্রায় অনুরূপ, TBE র প্রাদুর্ভাবের হার পরিবর্তনের নকশা ভিন্ন। কৃষিকর্ম বড় থেকে ছোট হয়েছে যার অর্থ পরিস্থিতি তীক্ষ্ণদন্তীদের বসবাসের অনুকুল হয়েছে। কিটনাশকের ব্যবহারও হ্রাস পেয়েছে।
অন্য অনেক রোগের মতো এঁটুলি বাহিত এনকেফেলাইটিসের কারণ বহুমুখী। TBE র বৃদ্ধি, বিস্তার, পারিপার্শিক, বাসস্থান এবং বাহকের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের যোগসুত্র আবিষ্কারের জন্য আরও গবেষনার প্রয়োজন।
দন্তুর প্রাণী বাহিত অন্য রোগের উদাহরণ-
ভিন্ন পরিবেশগত পরিবর্তন কিভাবে মানুষের মধ্যে বিভিন্ন সংক্রামক ব্যাধি ঘটায় তার উদাহরণ:

Source: Climate change and infectious diseases, World Health Organization
Translated into Bengali by Saheli Nath
References
Beebe, N.W. et al. (2009).Australia’s Dengue Risk Driven by Human Adaptation to Climate Change. PLoS: Neglected Tropical Diseases. 3, e429.
Brunkard, J.M. et al. (2008).Assessing the roles of temperature, precipitation, and ENSO in dengue re-emergence on the Texas-Mexico border region. salud pública de méxico. 50:3, 227-234
Clement, J., & Vercauteren, J. (2009). Relating increasing hantavirus incidences to the changing climate: the mast connection. International Journal of Health Geographics. 8
Dixon, Bernard (2009). Beware Fat Bank Voles. The Lancet: Cross-talk. 9
Grey, J.S. et al.(2008). Effects of Climate Change on Ticks and Tick-Borne Diseases in Europe. Interdisciplinary Prespectives on Infectious Diseases. 2009, 1-12.
Mapstone, Naomi South America: Climate change takes tropical diseases up the mountain. (2009, April 23). The Financial Times Limited 2009.
Nelson, Brian (2009, May 18). Dengue Fever Outbreak Far Worse Than Swine Flu. Eco Worldly, Retrieved June 04, 2009.
Phillips, M. L. (2008).Dengue Reborn: Widespread Resurgence of a Resilient Vector. Environmental Health Perspectives. 116, 382-388
Randolph, S. E. et al. (2007).Tick-borne encephalitis incidence in Central and Eastern Europe: consequences of political transition. Microbes and Infection. 10, 209-216.
Reiter, Paul (2008).Global Warming and malaria: knowing the horse before hitching the cart. Malaria Journal. 7
Reiter, P. (2008).Climate change and mosquito-borne disease: knowing the horse before hitching the cart. Rev. sci. tech. Off. Int. Epiz.. 27, 383-398.
Rizzoli, A. (2009). Forest Structure and Roe Deer Abundance Predict Tick- Borne Encephalitis Risk in Italy. PLoS ONE. 4:2
Tseng, Wei-Chun (2008).Estimating the economic impacts of climate change on infectious diseases: a case study on dengue fever in Taiwan. Climatic Change. 92, 123-140.
Weinhold, Robert (2009, Februrary 18). Hantavirus on the prowl in Europe. Environmental Science and Technology, Retrieved May 06, 2009.
Wu, P. et al. (2009).Higher temperature and urbanization affect the spatial patterns of dengue fever transmission in subtropical Taiwan. Science of the Total Environment. 407, 2224-2233.
Climate Change and Human health
Environmental Health Perspectives: Driven to extremes
IPCC Fourth Assessment (2007) Hemon and Jougla, 2004; Martinez-Navarro et al., 2004; Michelozzi et al., 2004; Vandentorren et al., 2004; Conti et al., 2005; Grize et al., 2005; Johnson et al., 2005.
|
Join the Climate Institute e-news mailing list: |
© 2007 - 2010 Climate Institute All Rights Reserved |
900 17th St. NW, Suite 700, Washington, DC 20006 Phone: +1-202-552-4723 Fax: +1-202-737-6410 info@climate.org |